ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠীর কীর্ত্তিপাশায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মী মোঃ সবুজ বেপারী কে (পিতা: আব্দুল বারেক বেপারী) প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে তারেক রহমানে আহবানে সারা বাংলাদেশের মসজিদে বাদ জুমা বিএনপি’র সর্বাদিক আসনে বিজয় লাভ করায় আগামি সরকার গঠনের জন্য দোয়া ও দেশ নেত্রি বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করার কথা থাকলেও এ ব্যাপারে কীর্ত্তিপাশা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো উদ্দোগ লক্ষ্য করা যায়নি। বিষয়টি স্থানিয় বাসিন্দা ঝালকাঠী সদর উপজেলা বিএনপি’র প্রবাসী কল্যান সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: রেজাউল হাসান মুন্নার নজরে এলে তিনি নিজ উদ্দোগে তৎক্ষনাক দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আয়োজিত দোয়া ও মাহফিল উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
সবুজ বেপারী জানান, জুম্মার নামাজ শেষে তিনি উপস্থিত বিএনপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা একটু বসুন, মুন্না ভাইয়ের তরফ থেকে মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা আছে।” এ কথা বলার পর স্থানীয় কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোঃ চপল বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখানে কেন “মুন্নার নাম” উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
এ সময় সেখানে থাকা মোঃ রেজাউল হাসান মুন্না পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে সভাপতি মোঃ চপলকে বলেন, সবুজ একজন সাধারণ কর্মী, ভুল করে কথা বলে ফেলেছে, বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর সভাপতি মোঃ চপল প্রকাশ্যে সবুজ বেপারীকে চড়-থাপ্পড় মারেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। ব্যাপক চাঁদাবাজি ও মাস্তানির অভিযোগে চপলের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ সহ বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ৫ই আগষ্টের পর থেকে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি স্বর্ন চোরাচালানকারী ও চিহ্নিত ডাকাত বিভাবে বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকেন? মারধরের ঘটনায় সবুজ বেপারীর পরিবার থেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি তোলা হয়েছে। সবুজ বেপারীর বাবা আব্দুল বারেক বেপারী বলেন, “আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি সভাপতি মোঃ চপলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৌশলে অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে ঘটনার সত্যতার প্রমান পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোনা ঝড় বইছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারন জনগন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠী সদর থানায় কোনো অভিযোগ দাখিল করা নাহলেও ঘটনার বিষয়বস্তু বিএনপির স্থানীয় সাধারন নেতা কর্মীরা ঝালকাঠীর উর্ধতন বিএনপি নেতাদের অবহিত করেন বলে জানা গেছে।