• ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর কলেজের শিক্ষক মহসিন আলীর বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ,তদন্তে সত্যতা মিললেও নেই কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা

Gagan Alonews
প্রকাশিত মে ২০, ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিরপুর কলেজের শিক্ষক মহসিন আলীর বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ,তদন্তে সত্যতা মিললেও নেই কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মিরপুর কলেজের জামাতপন্থী শিক্ষক মহসিন আলীর বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ: তদন্তে সত্যতা মিললেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নেই কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা।

রাজধানীর মিরপুর কলেজে গভর্নিং বডির সভাপতির জনাব সাইদুর রহমানের স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি—যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি জনাব সাইদুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং নথি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ, গুরুতর অনিয়ম, জাল স্বাক্ষর সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে আপিল কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনাব মোঃ মুহসিন আলীর সুস্পষ্ট সম্পৃক্ততা আছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সভাপতির প্রকৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব ও বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণও উঠে আসে। সভাপতির সাথে কথা বলে জানা যায় যে, প্রদত্ত স্বাক্ষরটি জাল। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক মহসীন আলীকে এই সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রদান করেননি। মহসিন আলীর এমন কার্যক্রমে তিনি ক্ষুব্ধ এবং কারণে তিনি সভাপতির পথ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তবে বিস্ময়ের বিষয়, এত গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি—মুহসিন আলীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জামাত শিবির এর প্রভাব ও ভয়ের কারণে কলেজ প্রশাসন বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে এবং অভিযুক্তকে অঘোষিতভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, স্বাক্ষর জালিয়াতি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
শিক্ষাবিদদের মতে, দ্রুত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কীভাবে এ গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।