সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই সম্পর্কের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ওয়াং এরলিং নামের এক যুবক। তার ভালোবাসার মানুষ মাদারীপুরের সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের হাফিজা আক্তার। তাকে বিয়ে করতে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই চীনা যুবক। তবে বিয়ের আগে তার পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে চায় হাফিজার পরিবার।
গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা ওয়াং এরলিংকে স্বাগত জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই তাকে দেখতে হাফিজাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন। কেউ কথা বলছেন, কেউ ছবি তুলছেন। ভিনদেশি যুবকের আগমন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
শনিবার সকালে চাপাতলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হাফিজাদের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের পরিণতি কী হয়, তা জানতে আগ্রহী অনেকেই।
হাফিজা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। কথাবার্তা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওয়াং এরলিং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাফিজার পরিচয় করিয়ে দেন। এতে দুই পরিবারের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। এরপর ওই যুবক বিয়ের প্রস্তাব দিলে হাফিজা বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানান। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন ওয়াং এরলিং।
হাফিজা জানান, চীনা যুবক ইসলাম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করতে চান। তবে পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চান তারা।
ওয়াং এরলিং জানিয়েছেন, ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত এবং তিনি স্বেচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হাফিজাকে জীবনসঙ্গী করে সুখী সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বাংলাদেশে এসে এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও পারিবারিক পরিবেশও তাঁর ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।
হাফিজার মা বিউটি বেগম বলেন, মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করেই তারা বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরই বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। মেয়ের ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়, সেটিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে চীনা যুবকের আগমন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। স্থানীয় আল-আমিন, সাইদুল ও রুবিনাসহ কয়েকজন জানান, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় তরুণীর বিয়ের বিষয়টি তাদের কাছে ব্যতিক্রমী। তবে বিয়ের আগে দুই পক্ষের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় রীতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অবহিত করা হলে খোঁজখবর নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।